আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জ দাঙ্গা নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তুমুল হট্টগোল হয়েছে। আজ (শুক্রবার) অধিবেশন শুরু হতেই সমাজবাদী পার্টির নেতা রমগোপাল যাদব বিষয়টি উত্থাপন করলে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। পরে বিরোধী সদস্যরা ওয়েলে নেমে ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে ক্যুরিয়েনের আসনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে ক্যুরিয়েন সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয় নি। নোটিশ না দিয়ে কীভাবে এরকম করা হচ্ছে? নোটিশ ছাড়া ভাষণে আপত্তি জানাতেই বিরোধী সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে ক্যুরিয়েন অধিবেশনের কাজ বেলা ১২ টা পর্যন্ত মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন।
রামগোপাল যাদব বলেন, ‘উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা একনাগাড়ে খারাপ হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে তাদের উপরে কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে। যাদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দেয়া হোক। যে প্রকৃত দোষী, যে গুলি চালিয়েছে তা ভিডিও চিত্রে প্রকাশ্যে এসেছে, সবাই দেখেছে হত্যাকারী একজন অমুসলিম।’
সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব আজ সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করে বলেন, ‘হিন্দুরাই হিন্দুদের হত্যা করেছে। কিন্তু দোষ চাপানো হয়েছে মুসলিমদের ওপর।’
রামগোপাল যাদব বলেন, ‘মুসলিমদের বাড়িঘরে জোর করে ঢুকে তাদের মারধর করা হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগে লোকেদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের সম্পত্তি নষ্ট করা হচ্ছে। বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
গত ২৬ জানুয়ারি ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবস পালনের নামে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যরা মোটর সাইকেলে করে তিরঙ্গা পতাকা নিয়ে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনাকর স্লোগান দেয়। এরপর সেখানে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় গুলিতে অভিষেক ওরফে চন্দন গুপ্তা নামে এক তরুণ নিহত ও নওসাদ নামে এক ব্যক্তি আহত হয়।
ওই ঘটনার পরে সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং পরবর্তীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার কারণে সেখানে ধর্মীয় স্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউ জারি করাসহ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও পিএসি বাহিনী মোতায়েন করা হয়।











